দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানসহ মুন্নি আক্তার কলী নামে এক গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনি ঝালকাঠির আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা শান্ত মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলায় ভাসুরের ছেলে শহীদ আলম, ননদ তাসলিমা বেগম, ননদের জামাই আক্কাসসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দেশীয় অস্ত্র, দা ও লোহার রড নিয়ে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করেন। তাদের বিরুদ্ধে মাছের ঘের থেকে মাছ লুট, গাছ কেটে ফেলা, বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং গৃহবধূকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মুন্নি আক্তার কলীর স্বামী মো. রফিক ২০২৪ সালের ২৭ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে সৌদি আরব থেকে তার মরদেহের সঙ্গে ১৮ হাজার ৪০০ সৌদি রিয়াল, স্বর্ণালংকার, অন্যান্য মালামাল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মুন্নি আক্তার কলী ও তার দুই সন্তানকে না জানিয়ে ভাসুরের ছেলে শহীদ আলম ও ননদ তাসলিমা বেগম দপদপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নামে জাল প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে মরদেহ, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল গ্রহণ করেন। পরে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তারা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২ জুলাই আসামিরা মুন্নি আক্তার কলীর ঘের থেকে প্রায় ২০ মণ মাছ লুট করেন, ঘেরের বাঁধ কেটে দেন এবং বসতঘরের পাশের ১৩টি গাছ কেটে ফেলেন। প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার দুই সন্তানকে মারধর করা হয়। পরে বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তাদের টেনেহিঁচড়ে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
তবে মামলার প্রধান আসামি শহীদ আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদীর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। হয়রানির উদ্দেশ্যেই তাকে ও অন্যদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এমএস/